( Read E-pub ) ⚣ বাংলাদেশের রাজনৈতিক জটিলতা Þ eBook or Kindle ePUB free

( Read E-pub ) ⚫ বাংলাদেশের রাজনৈতিক জটিলতা Ø Best Book, বাংলাদেশের রাজনৈতিক জটিলতা by Ahmed Sofa This is very good and becomes the main topic to read, the readers are very takjup and always take inspiration from the contents of the book বাংলাদেশের রাজনৈতিক জটিলতা, essay by Ahmed Sofa Is now on our website and you can download it by register what are you waiting for? Please read and make a refission for you ' যে যেভাবেই ব্যাখা করুন, বাংলাদেশে একটি মুক্তিযুদ্ধ সংগঠিত হয়েছে। রাশিয়া চায়নি, আমেরিকা চায়নি, ভারত চায়নি, চীন চায়নি, পাকিস্তান চায়নি বাংলাদেশে বাঙালিদের একটি জাতীয় রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হোক। ' আহমদ ছফা পঞ্চাশের দশক থেকে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি স্বায়ত্তশাসনের দাবি করে আসছিল। কিন্তু তখন দশটির এই ন্যায্য দাবিকে অন্যান্য রাজনৈতিক দল সমর্থন করেনি, বরং ন্যাপকে 'ভারতের চর', 'নেহেরু আ্যডেড পার্টি' এবং 'ইসলাম ও পাকিস্তানের শত্রু' বলে গালাগাল দিয়েছে। ন্যাপ যখন স্বায়ত্তশাসনের দাবি জানাচ্ছে, তখন আওয়ামী লীগের নেতা সোহরাওয়ার্দী সাহেব গর্বভরে বলছেন, শতকরা আটানব্বই ভাগ স্বায়ত্তশাসন দেওয়া হয়েছে এবং লীগের পাণ্ডারা তা শুনে হাততালি দিচ্ছেন। ষাটের দশকে এই পরিস্থিতি পালটে গেল। এদেশের বামপন্থী দলগুলো চীনরাশিয়ার প্রেসক্রিপশনে রাজনীতি করে৷ মস্কোপন্থিরা তাদের মক্কা রাশিয়ায় ঘুরে আসে, চীনপন্থিরা নিজেদের কিবলা পিকিংয়ে সফরে যেতো। তাই ভারতকে ঠেকাতে আইয়ুব চীনমুখী হলে, চীনপন্থিরা ভাবলো আইয়ুবের ঘাড়ে ভর করে সমাজতন্ত্র কায়েম করে ফেলবে। মস্কোপন্থিরা অবশ্য বিপদে পড়লো। যারা আইয়ুবের সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারতো, তাদের বিভক্তির সুযোগ আইয়ুব নিলেন। এ প্রসঙ্গে ছফা আফসোস করে লিখেছেন, ' অঞ্চলবহির্ভূত রাজনৈতিক অন্ধআনুগত্যের এমন বেদনাদায়ক নজির বোধ করি দুনিয়ার ইতিহাস সন্ধান করলেও অধিক পাওয়া যাবে না। 'মস্কো এবং পিকিংপন্থিদের আত্মকলহের সময়ে আবির্ভূত হলেন শেখ মুজিবুর রহমান। উত্থাপন করলেন ছয়দফা প্রস্তাব। জনগণ লুফে নিলো। এদিকে বামপন্থিরা এই প্রস্তাবকে স্বাগত জানানোর বদলে এই প্রস্তাবের বিরুদ্ধে বিষোদগার করার ঐতিহাসিক ভুল করলো। রুশপন্থিরা ভ্রম সংশোধনে এগিয়ে আসবার চেষ্টা করলেও ততদিনে দেরি হয়ে গেছে। আওয়ামী লীগ বামপন্থিদের সহযাত্রী হিসেবে একই নায়ে নিতে রাজি নয়। অবশ্য এ হলো একাত্তরের আগের ঘটনা। একাত্তরে ভারতের ক্ষমতাসীন কংগ্রেস নিজ দেশেই নানা বিপদে পর্যদুস্ত। ভারতের অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে থামিয়ে দেওয়া গেল মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে। ছফা লিখেছেন, ' কংগ্রেসের সুচতুর প্রচারণার দরুণ বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামকে ভারতের জনগণ এভাবে বুঝেছেন যে জিন্নার দ্বিজাতি তত্ত্ব মিথ্যা হতে যাচ্ছে, পাকিস্তান ভাঙ্গন আসন্ন হয়ে উঠেছে এবং শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশি জনগণ যে সংগ্রামে অবতীর্ণ হয়েছে তা মূলত কংগ্রেসের ব্রিটিশবিরোধী সংগ্রামের অসমাপ্ত পর্যায়। ' ছফা মনে করেন, ভারত পাকিস্তানকে শায়েস্তা করতে চেয়েছিল। কিন্তু ভাঙতে চায়নি। কেননা ভারতের মতো বহুভাষী এবং বহুজাতিক রাষ্ট্রের নাকের ডগায় ভাষাভিত্তিক জাতীয়তাবাদকে কেন্দ্র করে একটি নয়া রাষ্ট্রের পত্তন হোক তা ভারতের কাম্য হতে পারে না। বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠাকে ভারতের কোনো কোনো অঙ্গরাজ্য উদাহরণ হিসেবে নিতে পারে বলে ভয় ছিল ভারতের। আহমদ ছফার সাথে একমত পোষণ করে খানিকটা দ্বিমত জানাব। ভারতের চরম শত্রু পাকিস্তানকে ভাঙার এমন সুযোগ ভারত কেন হারাতে চাইবে? অবিভক্ত পাকিস্তানের চাইতে বিভক্ত পাকিস্তানকে মোকাবিলা অনেকবেশি সহজ নয় কি? দ্বিতীয়ত, ষাটের দশকে পার্বত্য চট্টগ্রামে ভারতের স্বাধীনতাকামীদের আশ্রয়প্রশ্রয় দিতো পাকিস্তান এমন একটি অভিযোগ ছিল। স্বাধীন বাংলাদেশ তা করবে না বলেই ধরা যায়। সেদিক থেকে দেখলে পাকিস্তানকে দুর্বল করার বদলে ভেঙে দেওয়াই বেশি যৌক্তিক নয়? ভারত রাজনৈতিক মীমাংসা চাইলেও বাংলাদেশের তা মেনে নেওয়ার কোনো সুযোগ ছিল না। কারণ ততদিনে বাঙালির একটাই লক্ষ্যে দৃঢ়বদ্ধ হয়েছিল তা হলো স্বাধীনতা। তাই আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ ভেবেছিলেন ভারত শুরুতেই সামরিক হামলার মাধ্যমে দেশ মুক্ত করে দেবে এমন ভ্রান্তি ঘুচলে লাগলো। কেননা,' কার যুদ্ধ কে করে? মুসলমান কিংবা কমিউনিস্ট সকলকেই নিজের লড়াই নিজেকে করতে হয়। ' ভারতের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় বাংলাদেশ স্বাধীন হলো। পরিস্থিতি নাজুক। ছফা লিখেছেন, ' এই সময় পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশে এলেন। তাঁর বড় বড় হুঙ্কার দেওয়া ছাড়া করার কিছুই ছিল না। 'বঙ্গবন্ধুর 'করার কিছুই ছিল না' কথাটা শুনতে খারাপ লাগে। তবে কথাটা একেবারে অসত্য নয়। একদিকে দলীয় কর্মীদের লুটপাট এবং অন্যদিকে তাঁর বিরুদ্ধে পাকিস্তানপন্থি এবং বামপন্থিদের একটি অংশের অপপ্রচারের বিরোধিতা শেখ সাহেবকে 'একঘরে' করে ফেলেছিল। এই অবস্থার বর্ণনা ছফার কলমে, ' আওয়ামী লীগের যাবতীয় অপকর্মের সমালোচকদের 'চীনপাকিস্তানের এজেন্ট' বলে তারা গলা চড়িয়ে বেড়াত। প্রকৃত সাম্প্রদায়িক ভেদবুদ্ধির গোড়ায় আঘাত দেওয়ার মত কোন কর্মসূচি তাদের পক্ষেও গ্রহণ করা একরকম অসম্ভব ছিল। 'মস্কোপন্থি কমিউনিস্ট পার্টি এবং ন্যাপের নিজেদের কোনো যোগ্যতার বালাই ছিল না। ভারতরুশের সাথে সদ্যস্বাধীন বাংলাদেশের সম্পর্ককে পুঁজি করে এরা শেখের ঘাড়ে সিন্দাবাদের বুড়োর মতো ভর করে। ছফার লেখা পড়লে একটি বিভ্রান্ত তৈরি হওয়ার সুযোগ আছে। তাঁর সকল যুক্তিকে 'ভালো'যুক্তি বলে গ্রহণ করা যাচ্ছিল না। বিশেষত, ভারতবিরোধিতা নিয়ে ছফার বক্তব্য সর্বাঙ্গে বিদ্বেষমুক্ত নয় বলে মনে হয়েছে। শেখের ভক্তরা ছফার ওপর ক্ষোভ দেখাতে পারেন। কারণ শেখ সাহেবকে একহাত দেখে নিয়েছেন ছফা। তবু বঙ্গবন্ধুর মৃত্যু নিয়ে যা লিখেছেন, তাতে মনে হয় শেখের প্রতি আলাদা দরদ ছফার ছিল। শেখের মৃত্যুপরবর্তী সময়ে তৎক্ষনাৎ কোনো লেখক, রাজনীতিক, বুদ্ধিজীবী সরাসরি এই হত্যাকাণ্ডের বিরোধিতা করেনি। নামেনি রাজপথে। ছফা এই কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করতে পারেননি। লিখেছেন, ' আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস, ইতিহাস এ নিয়ে একদিন প্রশ্ন উত্থাপন করবে এবং পরবর্তী বংশধর সকলকে সমানভাবে অপরাধী সাব্যস্ত করবে। ' আহমদ ছফা শতভাগ সত্য বলেছিলেন। বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর দায় জাতি হিসেবে আমরা এড়াতে পারি না। ভারত এবং আওয়ামী লীগ নিয়ে অনেকবেশি কড়া অবস্থান নিয়েছেন ছফা। অন্তত এই বইতে। ছফা দ্রোহী স্বভাবের মানুষ। এ ধরনের লেখা তাঁর জন্য নতুন নয়৷ তবু পাঠককে বলব, লেখার সময়কালে মনোযোগ দিতে। এটি ১৯৭৭ সালে লিখিত, জিয়াউর রহমানের আমলে। বর্তামানে একজন আওয়ামীলীগ এবং বিএনপি সমর্থক যেভাবে একে অপরকে মূল্যায়ন করে ঠিক একইভাবে ১৯৭০১৯৭৫ সালে একজন কমিউনিস্ট পার্টির নেতা বঙ্গবন্ধু এবং তৎকালীন (তাঁর) সরকারকে মূল্যায়ন (সমালোচনা) করে। তৎকালীন কমিউনিস্ট ধারনার দল (সমাজতান্ত্রিক দল যেমন জাসদ, কমিউনিস্ট পার্টি, সর্বাহার ইত্যাদি) সম্পর্কে অনেক বই পুস্তকে পাওয়া যায় যে, তারা গঠিত হয়েছিল বঙ্গবন্ধু সরকারকে উৎখাত করার মূলনীতি নিয়ে। আহমেদ সফা কিছুদিনের জন্য ছিলেন এই কমিউনিস্ট পার্টির একজন সদস্য এবং নেতা। তাঁর লেখা বইয়ে স্বাধীনতা, বঙ্গবন্ধু এবং তাঁর ৭১ পরবর্তী সরকারের কড়া সমালোচনা ছাড়া অন্য কিছু পাওয়া যাবে না এবং সেটাই হয়েছে। এখানে উল্লেখ করা দরকার সত্তুর/ আশির দশকে সমাজতান্ত্রিক ফ্রন্ট তৈরি হয়েছিল আওয়মীলীগের ওই সব সদস্য দিয়ে যাদের সাথে আওয়ামীলীগের অন্য গ্রুপের মতের মিল হয়নি।এই বইটি যে কারণে ভালো লাগেনি বা গ্রহণযোগ্য মনে হয় নাই০১ লেখক একটি ইতিহাস বই লিখেছেন অথচ একটা রেফারেন্স ব্যবহার করেন নাই। লেখকের সব কথা কিভাবে বিশ্বাস করা যায়? তার কথা অন্ধ অনুসরণ করার কোন কারণ খুজে পাইনা। বিশেষকরে, তিনি ছিলেন একজন কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য যারা এন্টি আওয়ামী হিসেবে পরিচিত। একজন এন্টি আওয়ামী স্বাভাবিক ভাবেই আওয়ামীলীগের সমালোচনা করবেন, হয়েছেও তাই। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু এবং তার প্রত্যেকটি পদক্ষেপকে সমালোচনা করেছেন। আসলে বলতে গেলে স্বাধীনতা এবং তার পরবর্তী প্রতিটি বিষয়কেই তিনি সমালোচনা করেছেন। এটা আসলে ইতিহাস বই না, একটা সমাজতান্ত্রিক মনোভাবের লোকের তাদের বিরোধীদল আওয়ামীলীগের সম্পর্কে একান্ত নিজস্ব মতামত এবং সমালোচনা।০২ এই বইয়ে অনেক গুজামিল টাইপের মতামত আছে, যেগুলো অন্য কোন লেখকের সাথে মিলবে না। কয়েকটা উল্লেখ করা যেতে পারে। লেখক বলেছেন, যুদ্ধের সময় বাংলাদেশের কোন পূর্ব প্রস্তুতি ছিল না। যার জন্য ভরতে এক কোটি লোক গিয়েছিল। ফলে যুদ্ধ ভারত নির্ভর হয়েছিল। লেখক এরপরে মতামত দিয়েছেন ভারত থেকে যদি আগে অস্ত্র কিনে রাখা হত এবং প্রতিরোধ করা হত তাহলে ভারতে এত লোক যেত না এবং ভারত নির্ভর হওয়া লাগত না। মাথায় আসে না, ভারত থেকে অস্ত্র কিনে এবং তাদের সাথে নিরাপত্তা চুক্তি করে কিভাবে ভারত নির্ভর না হয়ে থাকা যায়? আর ভারত থেকে পূর্ব পাকিস্তানে তখন অস্ত্র কেনার কি কোন উপায় ছিল? আর যদি উপায় থেকেও থাকে, তাহলে পশ্চিম পাকিস্তানের চোখ এড়ানো কিভাবে সম্ভব ছিল? আগরতলায় সামন্য একটা বৈঠক করে ৩৫ জনের ফাঁসির আদেশ হয়েছিল লেখক বোধহয় এটা ভুলে গিয়েছেন সমালোচনা করতে করতে। লেখকের দেওয়া এমন অনেক যাচ্ছেতাই যুক্তি আছে যোগুলা রেফারেন্স সহ আলোচনা করতে গেলে এক সপ্তাহর বেশী লেগে যাবে।০৩ এছাড়া তিনি ছয় দফা, মুক্তিযুদ্ধ, যুদ্ধ শুরুর ইতিহাস সম্পর্কে নিজের মনগড়া তথ্য দিয়েছেন যার কোন ভিত্তি নাই বলে মনে হয় কারণ তিনি কিভাবে এই সব তথ্য পেয়েছেন সে সম্পর্কে কছু উল্লেখ করেন নাই। বইটা পড়া শেষ করেছি গতকাল রাত্রে কিন্তু কিছু লিখতে পারিনি! কিছু বই আছে যেগুলো পড়ার পর আসলে হজম করতে একটু সময় লাগে! এই বইটাও তাই! আমাদের মুক্তিযুদ্ধ, এর পিছনের বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতির যে বিশাল হাত আছে তা সম্বন্ধে খুব আবছা আবছা ধারণা ছিল কিন্তু এ বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা পাওয়ার জন্য এই বইটার দরকার ছিল! এই বিষয়ে আসলে লিখতে খুব কম মানুষই মনে হয় সাহস পেয়েছে আর কেউ গুছিয়ে লিখলেও সেটা পড়ার সৌভাগ্য আমার হয়নি! খুব অল্প কথাতে অনেক কিছুই উনি ক্লিয়ার করেছেন তাই পড়তে ভালো লেগেছে।'যে যেভাবেই ব্যাখ্যা করুন, বাংলাদেশে একটি মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে। রাশিয়া চায়নি, আমেরিকা চায়নি, ভারত চায়নি, চিন চায়নি, পাকিস্তান চায়নি বাংলাদেশে বাঙালিদের একটি জাতীয় রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হোক। তথাপি বাঙালি জনগণের দাবি অনুসারে এখানে একটি যুদ্ধ হয়েছে, হত পারে সে যুদ্ধের ফলাফল অপরে আত্মসাৎ করেছে।' কথাগুলো ভালো লাগছে, এর পরে আর কোন কথা হতে পারে না! আমার মনে হয় বাংলাদেশের সকলেরই এই বইটা একবার হলেও পড়া উচিৎ!